বটিয়াঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট, শয্যা সংখ্যা বাড়ায় চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

ইন্দ্রজিৎ টিকাদার, বটিয়াঘাটা

বটিয়াঘাটার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি চলছে ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে। যার ফলশ্রুতিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নিজেই রোগীতে পরিণত হয়েছে। বিগত দিনে পুরাতন ভবনে ৩১ শয্যার হাসপাতাল পরিচালিত হতো। বর্তমানে ৩১ শয্যার পুরাতন ভবনটি ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তারপরও নতুন ভবনে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ঝুঁকির মধ্যেও বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

অপরদিকে, নতুন ভবনে ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে ৫০ শয্যার যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে চিকিৎসা সেবা ব্যাহতের পাশাপাশি হাসপাতালের পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। বর্তমানে ৩১ শয্যার হাসপাতালে রোগীর জন্য শয্যা সংখ্যা রয়েছে ডেলিভারি ১৪ টি, মুক্তিযোদ্ধা ১ টি সহ ৩ টি, অপারেটিভ ওয়ার্ড ২ টি মিলে মোট ১৯ টি। অথচ হাসপাতালে সার্বক্ষণিকভাবে রোগী ভর্তি থাকছে প্রায় শতাধিক। তাই বাধ্য হয়ে সিঁড়ির নিচে ও মেঝেতে রোগীর সিটের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। যে কারণে রোগী ও রোগীর সাথে আসা অভিভাবকদের চাপে বাথরুম ও মেঝে নোংরা হয়ে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। প্রতিদিন স্বল্প সংখ্যক ডাক্তার দিয়ে অধিক রোগীর সেবা প্রদান করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

৩১ শয্যার হাসপাতালের অনুমোদিত পদ জরুরি মেডিকেল অফিসার ৪ জন সেখানে আছে ২ জন, অফিস সহায়ক অনুমোদিত পদ ৪ জন, আছে ১ জন, অনুমোদিত পদ নিরাপত্তা প্রহরী ২ জন, আছে ১ জন, অনুমোদিত পদ ৫ জন, আছে ১ জন, অনুমোদিত পদ সিনিয়র স্টাফ নার্স ২৫ জন, আছে ২৪ জন, অনুমোদিত পদ মিডওয়াইফ ৬ জন, আছে ৫ জন, অনুমোদিত পদ স্বাস্থ্য পরিদর্শক ৩ জন, আছে ২ জন, অনুমোদিত পদ সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ৮ জন, আছে ৭ জন, অনুমোদিত পদ স্বাস্থ্য সহকারী ৪০ জন, আছে মাত্র ১৬ জন।

৩১ শয্যার হাসপাতালে যেখানে এতগুলো পদের জনবলের অভাব, সেখানে এত স্বল্প সংখ্যক জনবল দিয়ে কি ভাবে ৫০ শয্যার হাসপাতাল পরিচালিত হবে এটা সাধারণ মানুষের প্রশ্ন। বর্তমানে রোগীদের খাবারের মান কিছুটা উন্নতি হলেও হাসপাতালে রয়েছে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি এবং ওষুধের অভাব। এছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাকেরও অভাব রয়েছে। বিশেষ করে একজন অর্থোপেডিক, একজন কার্ডলোডি, একজন ইএনটি-নাক, কান ও গলা, একজন চক্ষু, একজন চর্ম ও যৌন ও একজন শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জরুরিভিত্তিতে প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন উপজেলাবাসী।

এ ব্যাপারে বটিয়াঘাটা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, বর্তমান হাসপাতালে জনবল সংকট রয়েছে। সংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এখন হাসপাতালে গর্ভবতী মায়েদের ডেলিভারির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের অপারেশন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন